গত ২৭ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় সিন্দুরমতি মেলা থেকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন সাংবাদিক খন্দকার আরিফ। উপজেলার ‘গ্রীন ক্যাফে’ সংলগ্ন রাস্তায় ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাঁর মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে এবং তাঁর কাছে থাকা নগদ ৯,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা আগামী ৩ দিনের মধ্যে ৫০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, হামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল আনিছ চিৎকার করে বলতে থাকে, “তোদের নিউজের কারণেই আমার বাবার পদ চলে গেছে।” উল্লেখ্য, অভিযুক্তের বাবা আনিছুর রহমান রাজারহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন, যিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সম্প্রতি বহিষ্কৃত হন। এই বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাজারহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি সরকার অরুণ যদু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক খন্দকার আরিফ।
বক্তারা বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। সোহেল আনিছের মতো চিহ্নিত বখাটেরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে।” সমাবেশ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে পুরো কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই ঘটনায় সাংবাদিক খন্দকার আরিফ বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে তিনি রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন,মামলার প্রধান আসামি সোহেল আনিছসহ জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন।
এবিডি.কম/রাজু